
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রায় ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই মর্যাদাপূর্ণ আসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও বর্তমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ২০২৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচিত হলে তিনি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক ও পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তৌহিদ হোসেন সেই পথেই হাঁটতে যাচ্ছেন। এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে, তবে এর পেছনে রয়েছে আগের সরকারের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা। ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
জাতিসংঘে সাধারণত পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে এই পদে সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। এই গ্রুপ থেকেই এবার তিনজন প্রার্থী লড়ছেন—বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন ও সাইপ্রাস। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ, জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী এটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য। ফলে এই নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত এই ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা, শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কূটনীতিক। বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ১৯৮২ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রশাসন, প্রটোকল ও ফরেন সার্ভিস একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দিল্লি, কলকাতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তৌহিদ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত হলে তাকে ফুল-টাইম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বছরব্যাপী নিউ ইয়র্কে অবস্থান করে কাজ করতে হবে। কারণ সময়ের পরিবর্তনে এই পদটি এখন অনেক বেশি দায়িত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মানবাধিকার ও জলবায়ু ইস্যুগুলোর জটিলতায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা এখন অনেক বেশি প্রভাবশালী।
বাংলাদেশ যদি এই নির্বাচন জিতে যায়, তবে এটি দেশের জন্য হবে এক বিশাল কূটনৈতিক অর্জন। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান ও মর্যাদা আরও সুসংহত হবে—এমনটিই প্রত্যাশা কূটনৈতিক মহলের।





























