
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ব্যবসায়ী লাল চাঁন ওরফে সোহাগকে চাঁদা না দেওয়ায় পাথর দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বুয়েট ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী ও একাধিক ছাত্র সংগঠন।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাবির হলপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হন। সেখানে বিএনপি ও যুবদলের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা: “অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; যুবদলের অনেক গুণ, পাথর মেরে সোহাগ খুন!”
এবি জুবায়ের নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “জাতীয়তাবাদী চাঁদাবাজদল সভ্যতা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে।”
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। ১৬ বছর মজলুম সাজার পর এখন তারাই সবচেয়ে বড় জালিম।”
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাবি ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষ নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, অথচ এখন খুন-ধর্ষণে দেশ ভরে গেছে।”
টিএসসি চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনও বিক্ষোভে অংশ নেয়। সংগঠনটির নেতা ইমরান হোসাইন নূর বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্যে হত্যা প্রমাণ করছে, শুধু বিএনপি নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দায় এড়াতে পারে না।”
বুয়েট শিক্ষার্থীরাও রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে শহীদ মিনার হয়ে মিছিল বের করে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, ঢাবি শাখা ছাত্রদল পৃথকভাবে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মিছিল করে। সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ৯ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্ব বিরোধের জেরে সোহাগকে হত্যা করা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, রবিনের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রকাশ্যে পাথর ছুড়ে ও লাথি মেরে হত্যা নিশ্চিতের পরও হামলাকারীরা লাশের উপর লাফাচ্ছিল। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।





























