
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সামরিক অভিযানের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, এটাই কি শেষ, নাকি এবার যুক্তরাষ্ট্রের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, বিশেষ করে ইরানের ওপর?
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযান কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও এবার ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন তারা।
ভেনেজুয়েলায় এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক একে বৈশ্বিক নিয়মকানুন উপেক্ষার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সরাসরি ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন’-এ যেতে দ্বিধা করবে না।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চলছে। এসব আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। এতে করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভেনেজুয়েলার মতো কৌশল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হতে পারে কি না।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা নীতিতে ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠার কথা বারবার উঠে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই বক্তব্য ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ভেনেজুয়েলা ও ইরান উভয় দেশই বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস মজুতধারীদের মধ্যে অন্যতম। ভেনেজুয়েলায় হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি দামের ওঠানামার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ে, তবে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর।
তবে সামরিক বাস্তবতায় ইরান ভেনেজুয়েলার মতো সহজ লক্ষ্য নয়। শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং জটিল ভৌগোলিক অবস্থান ইরানকে তুলনামূলকভাবে কঠিন প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে দেশটি নিজের সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনিশ্চিত অধ্যায় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন একটাই: এই পথেই কি এগোবে ট্রাম্প প্রশাসন, আর সেই পথের পরবর্তী গন্তব্য কি সত্যিই ইরান?





























