
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আদালতে তিনি বলেন, তিনি এখনো তার দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট এবং তাকে জোরপূর্বক আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে তাকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় তার পরনে ছিল কারাবন্দিদের জন্য নির্ধারিত নীল রঙের পোশাক। আদালতে প্রবেশের পর তিনি তার আইনজীবী ব্যারি জে পোলাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শান্তভাবে নির্ধারিত আসনে বসেন।
কিছুক্ষণ পর মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও আদালতে আনা হয়। শুনানি চলাকালে মাদুরো ও তার স্ত্রী দুজনই আদালতের কার্যক্রম বুঝতে দোভাষীর সহায়তায় হেডসেট ব্যবহার করেন। দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ৯২ বছর বয়সী অভিজ্ঞ বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টাইন বিচারকের আসনে বসে শুনানি শুরু করেন।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারক মাদুরোর কাছে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র তার হাতে পৌঁছায়নি এবং তার আইনি অধিকার সম্পর্কেও তাকে আগে জানানো হয়নি। দোভাষীর মাধ্যমে তিনি বলেন, বিচারকই প্রথম তাকে এসব বিষয়ে অবহিত করছেন।
এরপর বিচারক জানান, মাদুরোর পক্ষ থেকে ‘নট গিল্টি’ বা দোষী নন, এমন আবেদন আদালতে নথিভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয়বার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে মাদুরো দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আদালতে উত্থাপিত কোনো অভিযোগের সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। তিনি নিজেকে একজন ভদ্রলোক ও ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মামলার দায়িত্বে রয়েছেন বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন এবং মাদুরোর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারি জে পোলাক। আদালত আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এদিকে, মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দিয়ে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে।
ভেনেজুয়েলায় চালানো এই অভিযানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।





























