
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দিকে যাত্রারত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটি তুরস্কের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে সহায়তা চায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে রুট পরিবর্তন করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্যাংকারটি আবার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও নৌ-পর্যবেক্ষণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এলবাস’ নামের ট্যাংকারটি বুধবার মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোনের মাধ্যমে আক্রমণের শিকার হয়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করা হলেও ট্যাংকারে থাকা ২৫ জন নাবিকের কেউ হতাহত হননি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের তেল নিঃসরণ বা পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেনি।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি পরিকল্পিত ড্রোন হামলা ছিল। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী ট্যাংকারে একাধিক হামলার ঘটনায় জাহাজ বীমার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গত বছরের শেষ দিকে এমন এক হামলার পর মস্কো পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিলেও উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলো সংযমের আহ্বান জানায়। পরবর্তীতে আরও একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার দাবি উঠলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দায় অস্বীকার করে।
এলবাস ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা, তুরস্কের পরিবহন কর্তৃপক্ষ কিংবা আঙ্কারায় অবস্থিত রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশন, কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কৃষ্ণ সাগর তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে বিস্তৃত। এই সাগরপথ দিয়েই নিয়মিত শস্য, জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
নৌপর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। হামলার পর রুট পরিবর্তন করে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় ইনেবোলু বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নেয় জাহাজটি এবং পরে নিজস্ব সক্ষমতায় নোঙর করে।





























