
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি জানান, আইএসএফ গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে কয়েকটি মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশও সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে নীতিগতভাবে পর্যালোচনা করছে।
প্রেস সচিব বলেন, আইএসএফে যোগদানের বিষয়টি কয়েকটি মৌলিক শর্তের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে, এই বাহিনী হবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেটের আওতায় পরিচালিত হবে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ এবং দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজল্যুশন ২৮০৩ গ্রহণ করে, যেখানে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওই রেজল্যুশনের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়। পাশাপাশি কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে আল কুদস আল শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধসহ গাজা থেকে সব ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।





























