
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরি দেখিয়ে চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এবং অপর তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্মী আরিফ ফয়সালের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ, দিয়ান পারভেজ ও মাহি ইসলাম। রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রমনা পার্ক সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক প্রথমে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানতে চায় এবং পরে বসতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির মধ্যে মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজকে মারধর করা হয়। পরে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে চোখ ও কপালে জখম হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অন্য তিন শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ছিনতাইকারীরা তাদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে।
নেশাদ্রব্য দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ‘প্রলয় গ্যাং’ পরিচয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় নগদ ও হাতে থাকা অর্থ মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়।
পরবর্তীতে জানা যায়, জোরপূর্বক নগদ থেকে ক্যাশআউট করা ১৫ হাজার টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল এলাকার একটি দোকানের নগদ এজেন্ট নম্বরে নেওয়া হয়। লেনদেন সংশ্লিষ্ট দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ৮টা ৬ মিনিটে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল দোকানে এসে ক্যাশআউট করেন এবং দুই মিনিট পর দোকান ত্যাগ করেন।
আরিফ ফয়সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৩ আসনের ছাত্রদলের নির্বাচন সমন্বয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ ফয়সাল বলেন, তিনি প্রথমে পুরো ঘটনা জানতেন না। পরে বিস্তারিত জানার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে সরাসরি ছিনতাইয়ে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, এখনো এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























