
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গণহত্যার উসকানি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি চালাচ্ছেন এবং পরবর্তী দৃশ্যে মুসলমানদের প্রতীকী ছবিতে গুলি লাগছে। ভিডিওতে ‘কোনো ক্ষমা নয়’ ধরনের উসকানিমূলক বার্তাও যুক্ত করা হয়। ভিডিওটি আসাম বিজেপির একটি ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ভিডিওতে ব্যবহৃত এক ব্যক্তির ছবি রাজ্যের একজন বিরোধী কংগ্রেস নেতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আরও একটি দৃশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে কাউবয় পোশাকে দেখানো হয় এবং সেখানে ‘বিদেশিমুক্ত আসাম’ লেখা ভেসে ওঠে, যা সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে তৈরি বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আসাম বিজেপির এক নেতা বলেন, ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আর মন্তব্য করা হবে না।
তবে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়ছে। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) নেত্রী আন্নি রাজা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি আসাম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গुवাহাটির দিসপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সমালোচকেরা বলছেন, আসামে আসন্ন প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে জনসংখ্যা ও অপরাধের অভিযোগ তুলে ধারাবাহিকভাবে বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে এক বক্তব্যে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ ওঠে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য মারাত্মক হুমকি।




























