
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তার কাজ নিয়ে সমালোচনা হলে তিনি আপত্তি করেন না। তবে সমালোচনার আগে দেড় বছরে কী কাজ হয়েছে, তা জানা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। অনেক দিন গভীর রাত পর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করতে হয়েছে, এমনকি শুক্র ও শনিবারও নিয়মিত অফিস করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, পুরো সময়জুড়ে টিম হিসেবে কাজ করা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করা হয়নি।
তিনি বলেন, এসব কাজ কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলেও জানান।
আইনি সংস্কারে বড় পরিবর্তন
পোস্টে তিনি জানান, দেড় বছরে মোট ২২টি আইনি সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন হালনাগাদ করা হয়েছে, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বাণিজ্যিক আদালত চালু করা হয়েছে। গুম প্রতিরোধে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাইবার আইনের নিপীড়নমূলক ধারাগুলো বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছে, যাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না হয় এবং হয়রানিমূলক মামলা কমে আসে।
বিচার ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
আসিফ নজরুল জানান, বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আদালতের তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে মামলার তথ্য, কপি ও বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।
ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালুর মাধ্যমে পারিবারিক মামলার শুনানি ও নথি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা হয়েছে। অনলাইন বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু হওয়ায় জামিন প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। আদালতের কর্মচারী নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নিয়োগে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব কমে।
হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার
তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, দেড় বছরে ২৪ হাজারের বেশি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের আইনি ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে। রাজনৈতিক হয়রানি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপ্রয়োজনীয় মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করেই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আসিফ নজরুল। তদন্ত, সাক্ষ্য সংরক্ষণ, আইন সংশোধন এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা
বিচার বিভাগকে ডিজিটাল করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের নথি ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ, অনলাইন কেস ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল জানান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্বকালীন সময়ে কী কী কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে আলাদা করে বিস্তারিত জানানো হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, এসব কাজের পরও যদি কেউ সমালোচনা করতে চান, সেটি তাদের অধিকার। তবে সমালোচনার আগে দেড় বছরের কাজের পরিধি ও বাস্তবতা বিবেচনা করা উচিত।





























