সর্বশেষ
আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় পাকিস্তানের হামলা
মধ্যরাতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম
এই রমজানে যেভাবে সন্তানকে আল্লাহভীরু বানাবেন
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দেশে আজ সোনার ভরি কত?
জাতীয় সংবাদ
মুসলিম বিশ্ব
জাতীয় সংবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চাঁদা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী: মসজিদ, রিহ্যাব ও দলের জন্য চাঁদা দেই, এগুলো কি অবৈধ?
কুষ্টিয়ায় ‘উপরওয়ালা এখন আমি’: হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে কঠোর বার্তা আমির হামজার
গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধন, প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ
আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে গাজীপুরে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
হাদি হ*ত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৯মবার পেছাল
কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটভিত্তিক অপপ্রচারের অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের
মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে

সুকৌশলী তারেক রহমানে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ” তবে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর হতেই হবে।

Our Times News

ড.শফীকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান

আওয়ার টাইমস নিউজ।

বিশেষ সম্পাদকীয় কলামঃ হুসাইন আল আজাদ ইবনে নোয়াব

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস হলো ভয়াবহ ও বহু ঝড়-ঝাপটার ইতিহাস। পূর্বের বহু উত্থান-পতন, প্রতিশোধ, অবিশ্বাস এবং বিভাজনের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন এদেশের দেশপ্রেমী সচেতন নাগরিকরা শুধু সরকারই পরিবর্তন চায় না, বরং তারা চায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এই প্রেক্ষাপটে জনাব তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল ও ভূমিকা ভূমিকা নতুন করে আমাকে আশাবাদী করে তুলছে, এবং স্বপ্ন দেখিয়ে এই বিষয়ে কিছু লিখতে ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেছি, তিনি জনাব তারেক রহমান, নিজেকে সবদিক থেকে যথেষ্ট সংযত রেখেছেন। ২০ বছর আগের তারেক রহমান, এবং বর্তমান তারেক রহমানের মধ্যে আমি বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করছি, যেমন-তার বক্তব্যের মাধ্যমে আবেগের উচ্ছ্বাস নেই, প্রতিপক্ষকে আক্রমণের তীব্রতা নেই, আছে সাবধানী ও মাপা মনমুগ্ধকর বিশুদ্ধ শব্দের ব্যবহার, অর্থাৎ তিনি এমন কোন শব্দ ব্যবহার করছেন না, যেই শব্দ দ্বারা তার প্রতিপক্ষ ব্যথিত অথবা উত্তেজিত হবেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, নেতৃত্ব মানে শুধু শক্তি প্রদর্শন নয়; নেতৃত্ব মানে আত্মনিয়ন্ত্রণ।

বাংলাদেশের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে এটি ছোট বিষয় নয়। বরং আমি এটিকে তার ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখি। তারেক রহমানকে আমার কূটনৈতিকভাবেও খুব সূক্ষ্ম কৌশলী মনে হয়েছে। নির্বাচনের পর বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল একটি বার্তা, সংঘাত নয়, সংলাপ। এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এমন আচরণ নেতৃত্বের পরিপক্কতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। একজন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী যদি নিজের ভাষা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। জনপ্রিয়তা অর্জন করা এক বিষয়, টিকে থাকা আরেক বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ বহুবার আশা দেখেছে, আবার হতাশ হয়েছে। তাই আজ যারা স্বপ্ন দেখছে, তারা শুধু কথায় সন্তুষ্ট নয়, তারা প্রমাণ চায়।

জনাব তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় মহাগুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো এখানেই। যেমন, দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, এই পুরোনো রোগ যদি আবার মাথাচাড়া দেয়, তবে ব্যক্তিগত সংযম কোনো কাজে আসবে না। জনগণ এখন আগের চেয়েও অনেক অনেক বেশি সচেতন। তারা জানে, একজন নেতা তখনই সত্যিকারের নেতা হন, যখন তিনি নিজের অনুসারীদের সর্বোচ্চ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যখনই কোন নেতা নিজের অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, ঠিক তখনই জুলাই এর মত বিপ্লব আবশ্যকীয়ভাবে তৈরি হয়। আমি নিশ্চিত আমি এবং আশাবাদী যে, তারেক রহমান জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মাথায় রেখেছেন।

আমি মনে করি, তারেক রহমানের সামনে এখন ঐতিহাসিক সুযোগ আছে। তিনি চাইলে প্রমাণ করতে পারেন যে নতুন প্রজন্মের রাজনীতি মানে জবাবদিহি। এমপি, মন্ত্রী, স্থানীয় নেতা, যেই হোক, অনিয়ম করলে ছাড় পাবে না, এই বার্তাটি বাস্তবে রূপ দিতে হবে। দলীয় পরিচয় দিয়ে অপরাধ রক্ষা করা যাবে না।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এখানে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি গভীর। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভাষা ও আচরণে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিভাজন নয়, সম্মান, এই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আচরণে আমি যে পরিবর্তন দেখেছি, সেটি আশাব্যঞ্জক। কিন্তু ইতিহাস বলে, আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে কঠোর সিদ্ধান্ত লাগে। কঠোরতা মানে প্রতিহিংসা নয়; কঠোরতা মানে আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা।

আজ বাংলাদেশের মানুষ এমন একজন নেতৃত্ব চায়, যিনি ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন। যদি তিনি নিজের দলের ভেতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে পারেন, এবং প্রশাসনকে দলীয় নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে আগামী দশকে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।

স্বপ্ন দেখানো সহজ। স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। তারেক রহমান এখন সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে তিনি সংযত ও কৌশলী হতে পারেন। এখন তাকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি কঠোরও হতে পারেন, যখন রাষ্ট্রের স্বার্থ তা দাবি করে।

এখন বাংলাদেশের সকল নাগরিক তাকিয়ে আছে সুকৌশলী জনাব তারেক রহমানের সুশৃংখল শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের দিকে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৫:০৭
সূর্যোদয়ভোর ৬:২২
যোহরদুপুর ১২:১১
আছরবিকাল ৩:৩১
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:০০
এশা রাত ৭:১৬

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৫:০৭
সূর্যোদয়ভোর ৬:২২
যোহরদুপুর ১২:১১
আছরবিকাল ৩:৩১
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:০০
এশা রাত ৭:১৬

সর্বশেষ

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত