
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন দুই দিনের সফরে ইসরাইলে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই এই সফর নতুন কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, সফরটি পূর্বনির্ধারিত এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সময় নির্বাচনই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভারত তার কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ফলে প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সফরের কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয় নাগরিক এবং জ্বালানি সরবরাহ চেইন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত একদিকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে। জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্য বজায় রেখেই দিল্লি ভারসাম্য কূটনীতি অনুসরণ করছে।
সফরকালে মোদির ইসরাইলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার এবং হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের কথাও রয়েছে। এতে প্রতীকী বার্তাও স্পষ্ট—দুই দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা।
সব মিলিয়ে, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণের মধ্যে ভারতের অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন
























