
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবুও তেহরান যুদ্ধবিরতির জন্য সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে Oman, United Arab Emirates এবং Qatar যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব দেশের উদ্বেগ, সংঘাত দীর্ঘ হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং যেসব স্থানে হামলা হয়েছে সেগুলোর কিছু বেসামরিক অবকাঠামোর কাছাকাছি পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত সংঘাত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে ইরান আলোচনায় আসতে আগ্রহী। তবে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে সে ধরনের আলোচনার ব্যাপারে কোনো সম্মতি দেয়নি বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই নয়, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে Strait of Hormuz অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। যদিও ইরান জানিয়েছে, তারা প্রথমে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, এরপরই কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা





























