
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করে ফেরার পথে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জন ইরানি নৌসেনা নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু সদস্য।
ইরানি নৌবাহিনীর ওই যুদ্ধজাহাজটি মহড়া শেষে নিজ দেশে ফেরার সময় গভীর রাতে টর্পেডো হামলার শিকার হয়। হামলার তীব্রতায় যুদ্ধজাহাজটি দ্রুত সমুদ্রে তলিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আশপাশের জলসীমায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা সমুদ্রের উপরিভাগে ভাসমান তেলের স্তর, লাইফ র্যাফট এবং ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়। এখন পর্যন্ত ৩২ জন নৌসেনাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটিতে আনুমানিক ১৮০ জন নৌসেনা অবস্থান করছিলেন। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও গভীর সমুদ্রের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর সামুদ্রিক সামরিক সংঘর্ষগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরান, ভারতসহ একাধিক দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ নৌ-মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক হামলার শিকার হয় ইরানি যুদ্ধজাহাজটি।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। একই সঙ্গে নিহত ও নিখোঁজ নৌসেনাদের বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।





























