
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ফিরে দেখা ইতিহাস: আব্দুর রহিম চিশতীয়া
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো কখনো আনুষ্ঠানিক নথিতে পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না, আবার পুরোপুরি হারিয়েও যায় না। নব্বইয়ের দশকের একটি আলোচিত ঘটনা আজ আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নীরব প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসছে, কি কখনো রাজনীতির সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে উঠতে পারে?
তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে ঘিরে রাজধানীর গুলশানে একটি দুর্ঘটনার অভিযোগ সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও সমকালীন আলোচনায় উঠে আসে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগে জয় আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন। বিষয়টি তখন পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা একজন মা হিসেবে গভীর উদ্বেগে পড়েন—এমনটাই দাবি করেন তৎকালীন সময়ের একাধিক রাজনৈতিক সূত্র। তাদের ভাষ্যমতে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তাঁর পুত্রের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিশেষ অনুকম্পার আবেদন জানান।
বলা হয়ে থাকে, বেগম খালেদা জিয়া সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টিকে দেখেছিলেন একজন মায়ের আর্তি হিসেবে। মানবিক বিবেচনায় তিনি সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ করে দেন। সেই সিদ্ধান্তের ফলে জয় মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে দেশত্যাগ করেন—এমন দাবিও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
সময়ের স্রোতে সেই সিদ্ধান্ত আজ নতুন করে মূল্যায়নের মুখে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সেদিনের সেই মানবিক উদারতাই পরবর্তীতে বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর প্রমাণ হয়েছে। তাদের মতে, অপরাধের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, আইনের আওতায় না আনা হলে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
আরও একটি বিষয় আলোচনায় আসে বারবার। যে মানবিকতা বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর প্রতি তেমন কোনো প্রতিফলন দেখায়নি—বরং বেগম জিয়াকে কারাবরণসহ নানা আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, ইতিহাসের সেই মোড়ে যদি কঠোরভাবে আইনের শাসন কার্যকর হতো, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আজ হয়তো ভিন্ন হতো। মানবিকতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সীমারেখা কোথায়, এই প্রশ্নটি তাই এখনো অমীমাংসিত।
রাজনীতির এই অধ্যায় কোনো একক ঘটনার বিচার নয়, বরং একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায় দেশকে ক্ষমা কি সব সময় মহত্ত্ব, নাকি কখনো কখনো তা ভবিষ্যতের জন্য গভীর সংকেত হয়ে ওঠে?





























