
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবিত থাকা–না থাকা নিয়ে নতুন করে তীব্র রহস্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘কারাগারে হত্যা’–সংক্রান্ত গুজব রাতারাতি পাকিস্তানজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, ইমরান খান সুস্থ আছেন। কিন্তু পরিবার ও সাধারণ মানুষ কেউই এ দাবি যাচাই করে দেখার সুযোগ পাচ্ছে না।
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তবে গত তিন সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি পরিবারের কেউই। তার তিন বোন অভিযোগ করেছেন, বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও কারাগার প্রশাসন তাদের সাক্ষাৎ করতে দেয়নি। ফলে ইমরানের বাস্তবিক অবস্থা পুরোপুরি অন্ধকারে রয়ে গেছে।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়তেই কারাগারটির সামনে হাজারো মানুষ ভিড় করে। বিশেষত ভারতীয় ও আফগান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব গুজব আরও উস্কে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পিটিআই সমর্থকদের। পিটিআইয়ের আরও অভিযোগ, কারাগারের সামনে জড়ো হওয়া লোকজনের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে এবং ইমরান খানের তিন বোনও হামলার শিকার হয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এক মন্তব্য করেছেন ইমরানের ছোট ছেলে কাসিম খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই যে বাবা বেঁচে আছেন। তিন সপ্তাহের সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং তার অবস্থাকে গোপন করারই ইঙ্গিত দেয়।”
কাসিম আরও জানান, তার বাবা টানা ৮৪৫ দিন ধরে বন্দি। কিন্তু এখনকার নীরবতা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা পরিবারের ভিতর উদ্বেগ চরমে তুলেছে।
অন্যদিকে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত জনসাধারণকে কোনো ভিডিও, ছবি বা সরাসরি বার্তা দেখানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে বলে মানুষের ধারণা।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই অস্থির। ইমরান খানের রহস্যজনক নীরবতা এবং সরকারের ব্যাখ্যার অভাব দেশকে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





























