
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতি নয়, এটি পবিত্রতার মূল ভিত্তি এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি মহান ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ﴾
(সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬)
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে নাও, মাথা মুছে নাও এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও।”
অজু এমন এক ইবাদত যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর যোগ্য হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ»
(সহিহ মুসলিম)
অর্থ: “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।”
তবে অনেক সময় অজুর সময় অসচেতনভাবে এমন কিছু ভুল আমরা করে ফেলি, যার কারণে অজু বিশুদ্ধ হয় না। নিচে ইসলামের আলোকে অজুর সময় সাধারণ কিছু ভুল ও সেগুলো থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো,
অজু শুরুর আগে ‘বিসমিল্লাহ’ না বলা
অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। অনেকেই তাড়াহুড়োয় বা গল্প করতে গিয়ে এটি ভুলে যান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
«لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ»
(আবু দাউদ)
অর্থ: যে অজুর সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, তার অজু নেই।
অর্থাৎ, বিসমিল্লাহ পাঠ না করলে অজুর পূর্ণতা নষ্ট হয়ে যায়।
মিসওয়াক না করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
«لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ»
(সহিহ বুখারি)
অর্থ: যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, আমি প্রতিটি অজুর সময় মিসওয়াক করা ফরজ করে দিতাম।
এটি প্রমাণ করে যে মিসওয়াক করা অজুর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।
মুখে সঠিকভাবে পানি না দিয়ে কুলি করা
অনেকে মুখে পানি নিয়ে সরাসরি ফেলে দেন। কিন্তু হাদিসে বলা হয়েছে মুখের ভেতর ভালোভাবে পানি নাড়িয়ে কুলি করা উচিত। এতে মুখের ভেতরের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার হয় এবং অজু পূর্ণ হয়।
নাকে পানি টানার ভুল পদ্ধতি
হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,
«بَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا»
(আবু দাউদ)
অর্থ: নাকে ভালোভাবে পানি টানো, তবে রোজা থাকলে সাবধান থেকো।
কিন্তু অনেকেই শুধু পানি ছিটিয়ে দেন, যা যথেষ্ট নয়। নাকের ভেতর পানি পৌঁছানো অজুর অপরিহার্য অংশ।
নাক ঝাড়া ভুলে যাওয়া
নাকে পানি টানার পর সেটি ঝাড়া জরুরি। অনেকেই তাড়াহুড়োয় নাক ঝাড়েন না, ফলে অজু অসম্পূর্ণ থাকে। নাকে পানি টানার পর হালকা ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে।
হাত ও পায়ের আঙুলের খিলাল না করা
নবী করিম (সা.) বলেন,
«خَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ»
(তিরমিজি)
অর্থ: অজুর সময় হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁক পরিষ্কার করো।
যদি আঙুলের ফাঁকে পানি না পৌঁছায়, তবে সেই অংশ অজু থেকে বাদ পড়ে যায়।
শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকা
অজুর সময় শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। নবীজি (সা.) এক সাহাবিকে দেখেন, তার গোড়ালিতে অল্প জায়গা শুকনো রয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন,
«ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ»
(সহিহ মুসলিম)
অর্থ: ফিরে যাও এবং সুন্দরভাবে অজু করো।
অতএব, অজুর সময় নিশ্চিত করতে হবে যাতে শরীরের কোনো অংশ শুকনো না থাকে।
অজু শুধু শরীর ধোয়া নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক মহা সুযোগ। অজুর মাধ্যমে ছোট গুনাহ মাফ হয়, দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়। তাই অজুর সময় সতর্কতা, মনোযোগ এবং সুন্নাহ অনুসারে করাই প্রকৃত ঈমানদারের পরিচয়।





























