
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর যারা নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, বাংলাদেশের মাটিতেই তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
রোববার মোহাম্মদপুরে জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ফাইয়াজ-সৈকতসহ নয়জনকে হত্যার ঘটনায় তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিলের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ১৮ ও ১৯ জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দুটি দিন। এই দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও বর্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট ছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা। সেখানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুর রহমান সৈকতসহ মোট নয়জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
তিনি বলেন, ওইদিন সরাসরি মাথায় গুলি করে ফাইয়াজ ও সৈকতকে হত্যা করা হয়। শহীদ সৈকত ছিলেন প্রাণবন্ত ও উচ্চতায় প্রায় ছয় ফুট লম্বা এক তরুণ। ১৯ জুলাই শুক্রবার তিনি মাকে না জানিয়েই আন্দোলনে অংশ নিতে মোহাম্মদপুরে যান। পুলিশের একটি দল চাইনা রাইফেল দিয়ে গুলিবর্ষণ করলে একটি গুলি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ ছিলেন অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও সাহসী একজন তরুণ। ফাইয়াজ ও সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের সময় যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, যারা পেছনে থেকে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছে এবং যারা কমান্ড রেসপনসিবিলিটিতে ছিল-তাদের প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই তদন্ত সংস্থা প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রমাণ আদালতে দাখিল করেছে।
তিনি জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ২৯ জানুয়ারি পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্য শুরু হবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই নিষ্ঠুর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




























