
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার সময় খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। হামলায় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। হামলার সময় খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায় প্রাসাদটি ধসে গেছে এবং বিস্ফোরণের কালচে চিহ্ন স্পষ্ট।
এ হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইতিমধ্যেই খামেনির মৃত্যুর দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “খামেনি ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের জন্যও ন্যায়বিচার।”
ইরানি সরকার খামেনির মৃত্যুর পর সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর দেশব্যাপী সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে অস্থিতিশীল করতে পারে। হামলার লক্ষ্য ছিল শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হয়।
ইরান ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় খামেনি নিরাপদ স্থানে ছিলেন। তবে তার সঙ্গে নিহতরা ছিলেন প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তা। হামলার প্রকৃতি, ব্যবহৃত অস্ত্র বা সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানি জনগণ ও ইসলামি বিশ্বের মধ্যে এই হামলা নিয়ে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ মুসলিম নেতারা শান্তি ও জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।





























