
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর আলোচিত নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। সাম্প্রতিক তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে এই হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার পরিচয়, উত্থান এবং প্রভাবের বিস্তার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং সংগঠনিক ভূমিকার কারণেই হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় একাধিক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্দেশ আসে প্রভাবশালী মহল থেকেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাপ্পির উত্থান শুরু হয় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অবৈধ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা, কেবল টেলিভিশন সংযোগ, ইন্টারনেট লাইন, এমনকি ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এক সময় এলাকায় ‘ঝুট বাপ্পি’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ক্ষমতার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনযাপনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। সাধারণ টিনশেড ঘর থেকে এখন বিলাসবহুল ভবন, ব্যক্তিগত গাড়িবহর এবং বহুমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সবই এসেছে অল্প সময়ের ব্যবধানে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকেও বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। যুব সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তার প্রভাব এলাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে এই রাজনৈতিক অবস্থানই তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণ।
এর আগে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ একাধিক ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এলেও কার্যকর কোনো আইনি পরিণতি হয়নি। এমনকি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেও নির্বাচনে জয়ী হলেও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।





























