
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান ধাতুটি ১৩ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ২২ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। চলতি জুন মাসেই স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। এর ফলে টানা চতুর্থ মাসের মতো মূল্যপতন ঘটেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের পর এবারই প্রথম স্বর্ণ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি বেশি কেন্দ্রীভূত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ও সুদের হারের দিকে। উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের পরিবর্তে মার্কিন ডলার ও সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
বিনিয়োগ বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বাজারে বর্তমানে এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেই অনেক বিনিয়োগকারী তা বিক্রি করে দিচ্ছেন। তার মতে, বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দামকে অন্তত ৪ হাজার ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল হতে হবে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে। এ প্রত্যাশাই স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচক, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দামের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: রয়টার্স




























