
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দেশের কয়েকটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থান করছে যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইনে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পূর্ববর্তী এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকার বিপুল সংখ্যক ভবন এখনও পর্যাপ্ত ভূমিকম্প সহনশীল নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মাত্র অল্পসংখ্যক ভবন শক্তিশালী ভূমিকম্প মোকাবিলার সক্ষমতা রাখে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ জরুরি।
তাদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণের মান উন্নয়ন করলেই হবে না; একই সঙ্গে উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত মহড়া, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ, অফিস ও আবাসিক এলাকায় ভূমিকম্পের সময় করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি বাংলা


























