
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে ডায়াবেটিস, অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল, ইনজেকশন এবং ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় নামিদামি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওষুধের আদলে পণ্য তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, নয়াবাজার, শ্যামপুর, কদমতলী ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নকল ওষুধ জব্দ করা হয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, নকল ওষুধ শুধু রোগ সারাতে ব্যর্থই হয় না, বরং রোগীর শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, লিভার ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি মুনাফার আশায় অসাধু চক্রগুলো মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। তারা নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নকল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে ওষুধ কেনার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, নিবন্ধিত ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনা, মোড়ক ও মেয়াদ যাচাই করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার না করাই নিরাপদ।





























