
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাতের দুই মাস পেরিয়ে গেছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত ও “নিশ্চিত জয়”-এর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, বাস্তবতা ততই ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে, যেখানে যুদ্ধের ফলাফল স্পষ্ট না হয়ে বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, জ্বালানি খাতে চাপ দ্রুত বাড়ছে। তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করছে। ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সামরিক দিক থেকে এখনো কোনো পক্ষই নির্দিষ্টভাবে জয় দাবি করতে পারেনি। ইরান তার প্রতিরোধ ধরে রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও প্রত্যাশিত কৌশলগত সাফল্য দেখাতে পারেনি। ফলে যুদ্ধটি এক ধরনের অচলাবস্থায় রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তৃতীয়ত, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজন তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ঐক্যের পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে মতবিরোধ স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব স্পষ্ট। বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে, এবং অনেক দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়েছে, কারণ জ্বালানি ও খাদ্যের দাম একসঙ্গে বাড়ছে।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই যুদ্ধে আসল বিজয়ী কে?
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কোনো দেশকে বিজয়ী বলা কঠিন। তবে কিছু খাত এই পরিস্থিতিতে লাভবান হয়েছে, বিশেষ করে অস্ত্র শিল্প ও বিকল্প জ্বালানি খাত। একই সঙ্গে কিছু আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি যেমন বাড়ছে, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ অর্থনৈতিক চাপে ভুগছে।
সব মিলিয়ে দুই মাসের এই সংঘাত একটি বাস্তবতা সামনে এনেছে, যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ মনে হয়, তার শেষটা ততটাই অনিশ্চিত। “নিশ্চিত জয়”-এর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন বৈশ্বিক অস্থিরতার এক বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান




























