
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের মাটিতে এবার এক টুকরো জমিকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
দেশটির পিটারবরো শহরে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল একটি বিশেষ মুসলিম সংস্থার কাছে এক খণ্ড জমি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে।
জমিটি হস্তগত করার পর ‘ইউনাইটেড কিংডম ইসলামিক মিশন’ নামে ওই মুসলিম সংস্থা সেখানে একটি বিশাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
কাউন্সিলের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর থেকেই যুক্তরাজ্যের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে ওই নির্দিষ্ট জমিতে তাদের একটি পবিত্র মন্দির প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এটি তাদের ধর্মীয় আবেগের জায়গা।
তবে যে জমির ওপর মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল, তার মূল মালিকানা ছিল মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠান পিটারবোরো সিটি কাউন্সিলের হাতে।
সিটি কাউন্সিল নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, তারা জমি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেছে।
তারা তাদের নিজস্ব আইনি ক্ষমতার মধ্যে থেকেই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই পুরো জমি বিক্রির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে বলে দাবি করে।
কোনো ধরনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব না করে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক মানদণ্ডের ভিত্তিতেই দরপত্র যাচাই করা হয়েছে।
মূলত পিটারবরো সিটি কাউন্সিলের ওপর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল ঋণের বোঝা রয়েছে, যা পরিশোধের লক্ষ্যে তারা সম্পত্তিটি বিক্রি করে।
উন্মুক্ত বাজারে জমিটি বিক্রির জন্য তোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে যোগ্যতার ভিত্তিতেই মসজিদ গ্রুপকে জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নিজেদের পবিত্র উপাসনালয়ের এই জমিটি রক্ষা করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
কাউন্সিলের পক্ষে আইনজীবী ক্যাথরিন রোল্যান্ডস আদালতে জোরালো যুক্তি দিয়ে বলেন, জমি বিক্রির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, ন্যায্য ও আইনসম্মত।
আদালতে দুই পক্ষের দীর্ঘ ও সংবেদনশীল বক্তব্য শোনার পর সম্মানিত বিচারক আপাতত এই বিক্রি প্রক্রিয়ার ওপর একটি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।
এদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বর্তমান যে নামাজের জায়গা রয়েছে তা মুসুল্লিদের তুলনায় কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।
তারা এই নতুন স্থানে এমন একটি আধুনিক ইসলামিক সেন্টার গড়ে তুলতে চায়, যেখানে নামাজের স্থান ছাড়াও শিশুদের জন্য শ্রেণিকক্ষ থাকবে।
একই সাথে সেখানে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে বলে মসজিদ কমিটি জানিয়েছে।
ধর্মীয় সুড়সুড়ি ও উপাসনালয় নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিল সংকটটি বর্তমানে পুরো যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার হচ্ছে।
আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো পক্ষই নতুন করে কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবে না বলে জানা গেছে।
বিদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উপাসনালয়ের অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ইয়েনি সাফাক ও দ্য প্রিন্ট।


























