
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার ঘটল এক চরম উদ্বেগজনক ও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর সামরিক সংঘাতের ঘটনা।
ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাদের একটি অন্যতম প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থা দাবি করেছে, খুজেস্তান প্রদেশে নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার ভোর আনুমানিক ৩টা ৩৯ মিনিটে মার্কিন যুদ্ধবিমান বা রণতরী থেকে এই অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
হঠাৎ করে চালানো এই বড় ধরনের হামলার ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই বিধ্বংসী হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই ন্যাক্কারজনক ও বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
খুজেস্তান প্রদেশের এই ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল নির্মাণকাজ মূলত বিগত ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
এটি ইরানের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রকল্প।
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
একই সাথে হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মরত বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী বা সাধারণ কর্মীদের কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা তাও প্রকাশ করা হয়নি।
এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কিংবা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তবে এই হামলার ঠিক আগেই ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছিল।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দেশের আকাশে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনটি সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পূর্ব খুজেস্তানের আহভাজ এলাকার আকাশে নজরদারি করার সময় ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে প্রতিহত করে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই এমকিউ-৯ হলো বিশ্বের অন্যতম দূরনিয়ন্ত্রিত, শক্তিশালী ও মানববিহীন এক মারণাস্ত্র।
এই ড্রোনটি মূলত অত্যন্ত গোপনে নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে নিখুঁত বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ মহল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে কঠোর ও পাল্টা প্রতিশোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বকে এক নতুন এবং দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র:আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।


























