
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির এক মাসও না পেরোতেই আবারও ইরানে বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেটিকে কার্যকর নয় বলে দাবি করে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে ইরান পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধবিরতি ছিল ওয়াশিংটনের একটি সাময়িক কৌশল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত তেলের মজুত বাড়ানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ওই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ভোটারদের অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সাময়িকী American Conservative-এর নির্বাহী সম্পাদক কার্ট মিলস এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়। ইরান প্রণালিটি বন্ধের হুমকি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানে রূপ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দীর্ঘমেয়াদি এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা অতীতে এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান প্রশাসনে ইরান বিষয়ে অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকের অভাব রয়েছে। ফলে কূটনৈতিকভাবে সংকট মোকাবিলার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেলের মতে, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করারও প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: The Guardian


























