
আওয়ার টাইমস নিউজ:
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: প্রশ্নের মুখে চীনা যুদ্ধবিমান ‘এফ-৭’ এর নিরাপত্তা
রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিয়ে। চীনের তৈরি এই এফ-৭ বিজিআই মডেলের জেটটি প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনায় পড়ে। এটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হালকা ও দ্রুতগামী মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, যা তৈরি করেছে চেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন।
একই মডেলের বিমান, তিন পাইলটের মৃত্যু
গত এক দশকে বাংলাদেশে একই মডেলের অন্তত তিনটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন দক্ষ পাইলট:
২০০৮: টাঙ্গাইলে স্কোয়াড্রন লিডার মোর্শেদ হাসান বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন।
২০১৫: চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়ে নিখোঁজ হন পাইলট তাহমিদ রুম্মান।
২০১৮: টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান পাইলট আরিফ আহমেদ।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা:
এফ-৭ মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি মিগ-২১ এর নকল সংস্করণ। রপ্তানির সময় আমদানিকারকের চাহিদা অনুযায়ী এর সংস্করণ তৈরি হয়। ‘বিজিআই’ সংস্করণে আধুনিক গ্লাস ককপিট, উন্নত রাডার ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম থাকলেও এটি তুলনামূলকভাবে কম স্বয়ংক্রিয়। ফলে কম উচ্চতা ও বেশি গতিতে প্রশিক্ষণ চালানোর সময় পাইলটদের বাড়তি মনোযোগের প্রয়োজন হয়।
আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত:
শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তান ও ইরানেও এফ-৭ বিধ্বস্ত হয়ে একাধিক পাইলটের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনা যুদ্ধবিমানটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উপসংহার:
বারবার দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—পুরনো মডেলের এই যুদ্ধবিমান কতটা নিরাপদ? বিশেষ করে প্রশিক্ষণের সময় এর ঝুঁকি নিয়ে এখনই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআই/এসএফ





























