
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তাদের সামনে ছিল অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবেই উতরে গেছে সফরকারীরা। রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিস দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন।
তবে দলীয় ৪০ রানের মাথায় আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। মাত্র ১২ বলে ২১ রান করে জশ ইংলিস ফিরে যান সাজঘরে। একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান শরিফুল।
দুই উইকেট হারানোর পর কুপার কনোলির সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। কিন্তু এই জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ১৬ বলে ৮ রান করে ক্যারি আউট হলে ৭০ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
তাসকিন আহমেদের সেই উইকেটের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের দিকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন কুপার কনোলি।
কনোলির সঙ্গে পরে যোগ দেন মারনাস লাবুশেন ও ক্যামেরন গ্রিন। দুজনই কিছুটা সময় উইকেটে থেকে তাকে সমর্থন দেন। লাবুশেন ২৯ এবং গ্রিন ২৭ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পেলেও কনোলিকে থামাতে পারছিলেন না। ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে ইনিংস গড়ে তিনি প্রথমে ফিফটি এবং পরে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
সেঞ্চুরির পরও থামেননি এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। মাঠের চারদিকে শট খেলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি সহজেই জিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের একটি ওভারে ২১ রান তুলে তারা জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায়।
তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলাম পরপর দুই বলে ওলিভার পিক ও জাভিয়ের বার্টলেটকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন।
যদিও হ্যাটট্রিক পাওয়া হয়নি, এরপর আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে কাঁপিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার।
নিজের ১০ ওভারের স্পেলে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড।
শেষ দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ৫ রান। হাতে ছিল দুই উইকেট। তখনও ম্যাচে আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারে বল হাতে এসে মোস্তাফিজুর রহমান বড় ধাক্কা দেন অস্ট্রেলিয়াকে। ১৪৯ রানে ব্যাট করা কুপার কনোলিকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। ১৩৪ বলের দুর্দান্ত ইনিংসে কনোলি করেন ১৪৯ রান।
তার ইনিংসে ছিল অসাধারণ ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা এবং ম্যাচ জেতানোর মানসিকতা। শেষ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী ক্রিকেটার।
কনোলির বিদায়ের পরও উত্তেজনা কমেনি। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান। বাংলাদেশের দরকার ছিল একটি উইকেট।
তাসকিন আহমেদ শেষ ওভার করতে এসে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। প্রথম দুই বলে মাত্র ১ রান আসে। ফলে চাপ আরও বাড়ে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জাম্পা একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সব হিসাব শেষ করে দেন। ৩ বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
যদিও ম্যাচটি জিততে পারেনি বাংলাদেশ, তবুও পুরো সিরিজে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল তারা।
ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ হলেও ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।




























