
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে দারুণ এক নাটকীয় ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করেছে কাতার। ম্যাচজুড়ে সুইসদের আধিপত্য থাকলেও শেষ মুহূর্তের গোলে সমতা ফিরিয়ে এনে ইতিহাস গড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জনের স্বাদ পেল কাতার।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কাতার রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামলেও সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে দুই দলই কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে তারা কাতারের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে।
১৩তম মিনিটে সুইজারল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পায়। ব্রিল এমবোলোর হেড থেকে বল নিচে নামার পর সেটি দখলে নিতে এগিয়ে যান রেমো ফ্রয়েলার। কিন্তু কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা তাকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
১৭তম মিনিটে স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে সুইজারল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো। এবারের বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে এটিই ছিল প্রথম গোল। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সুইসরা এবং একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।
প্রথমার্ধে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। কাতার বেশিরভাগ সময় নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। তবে গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ দলকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। সুইজারল্যান্ড আক্রমণের ধার বজায় রাখে এবং বারবার কাতারের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করে। পুরো ম্যাচে তারা ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি পোস্টে লাগে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ও দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে একাধিক নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে সুইস ফুটবলাররা।
অন্যদিকে কাতার খুব বেশি আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে তাদের শটের সংখ্যা ছিল সাতেরও কম। তারপরও তারা ধৈর্য ধরে ম্যাচে টিকে থাকে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।
যখন মনে হচ্ছিল সুইজারল্যান্ড পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে, তখনই ঘটে নাটকীয়তা। ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আসা একটি নিখুঁত ক্রসকে হেডে জালে পাঠান কাতারের অধিনায়ক বুয়ালেম খুখি।
তার সেই গোল মুহূর্তেই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। পুরো স্টেডিয়ামে শুরু হয় কাতারি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। কারণ এই একটি গোল শুধু ড্রই এনে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে কাতারের প্রথম পয়েন্টও নিশ্চিত করেছে।
২০২২ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল কাতার। সেবার তারা সাত গোল হজম করে এবং কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। তাই সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই ড্র কাতারের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে কাতারের খেলোয়াড়দের আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন একটি বড় জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের অনুভূতি তাদের জন্য ছিল বিশেষ কিছু।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি হতাশার ম্যাচ। অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও জয় নিশ্চিত করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
এই ড্রয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের লড়াই আরও জমে উঠেছে। এর আগে গ্রুপের অন্য ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাও ১-১ গোলে ড্র করেছিল। ফলে গ্রুপের চার দলেরই পয়েন্ট এখন সমান ১ করে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন ফলাফলে ‘বি’ গ্রুপে প্রতিযোগিতা আরও উন্মুক্ত হয়ে উঠেছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রতিটি পয়েন্টই হতে পারে নকআউট পর্বে ওঠার জন্য নির্ধারক।




























