
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে সোনার অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। শতাংশভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সোনার গয়না কিনতে ক্রেতাদের বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ভ্যাট দিতে হতে পারে।
বর্তমানে সোনা বা স্বর্ণালংকার বিক্রির ক্ষেত্রে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পদ্ধতিতে প্রতি ভরিতে ভ্যাটের পরিমাণও অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভ্যাট আদায়ও সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শতাংশভিত্তিক ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভরিপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দাবি করেছে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছে না। নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হলে অধিক সংখ্যক ব্যবসায়ী ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে মাত্র কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠানের। নিয়মিত ভ্যাট দেয় আরও কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই খাত থেকে সরকারের বার্ষিক ভ্যাট আদায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে ভ্যাট বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এ প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট চালু করলেই সব ব্যবসায়ী করের আওতায় চলে আসবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। কার্যকর নজরদারি ছাড়া রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নাও আসতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে সাম্প্রতিক পতনের প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে। ফলে ভ্যাট কাঠামোয় পরিবর্তন এলে ভবিষ্যতে স্বর্ণালংকার ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।




























