
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে খেলার অভিজ্ঞতার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের নারী ফুটবলার ক্যাথেলেন সুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার নিজেই তার ধর্মান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিও বার্তায় ক্যাথেলেন বলেন, ধীরে ধীরে তিনি নিজের জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে চান এবং জীবনের প্রতিটি উপহারকে নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, নিজের ভেতরের শান্তি ও পরিপূর্ণতার খোঁজ থেকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর নারী দল–এর হয়ে খেলছেন ক্যাথেলেন সুজা। ক্লাবটির পক্ষ থেকেও তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এক বার্তায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাথেলেনের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা তার পাশে রয়েছে এবং তার জন্য শান্তি ও স্থিরতার দোয়া করা হচ্ছে।
ইসলাম গ্রহণের পর সম্প্রতি তিনি ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যান। সেখানে তোলা কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে ক্যাথেলেন আবারও নিজের অনুভূতির কথা জানান। তিনি লেখেন, সঠিক পথের সন্ধান, আত্মপরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতাই তাকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও দারুণ সময় কাটাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। আল-নাসর নারী দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রক্ষণভাগে তিনি ধারাবাহিক ও দৃঢ় পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনি মাসসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাও পান।
ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের সাও ভিসেন্তেতে জন্ম নেওয়া ক্যাথেলেন ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। ব্রাজিলে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলার পর তিনি পড়াশোনা ও ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা গড়ে তোলেন।
পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন এবং কেন্দ্রীয় ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রাজিল নারী জাতীয় দলের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন ক্যাথেলেন। ফুটবলের মাঠে যেমন শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, ব্যক্তিজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও তেমনি আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ধর্মীয় বিশ্বাসে এই পরিবর্তনের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও আত্মিক শান্তির পথে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।


























