
আওয়ার টাইমস নিউজ
নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছেন। তার এই বক্তব্যের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কী কারণে এমন চাপের কথা বললেন দেশের সরকারপ্রধান?
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের পর মানুষের মধ্যে যে আশাবাদ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারের ওপর বর্তেছে।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। একই সময়ে জনগণ দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায়। ফলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সময় যেন খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। কখন সকাল শুরু হচ্ছে আর কখন সন্ধ্যা নেমে আসছে, তা অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে দিনের সময় আরও দীর্ঘ হলে হয়তো আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হতো।
এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, দেশের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে সময়ের স্বল্পতা নিয়ে তার বাবার যে অনুভূতি ছিল, বর্তমানে তিনিও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যক্তিগত কষ্টকে সামনে রেখে নয়, বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের নানা ঘটনার কারণে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের কর্মকাণ্ডে কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মতামত সরকারের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করতে এবং জনস্বার্থে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের বর্তমান বাস্তবতা, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতার একটি প্রতিফলন। তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।




























