
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: সাম্প্রতিক বড় ধরনের পতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তা, ডলারের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি ঝোঁক, এই তিনটি প্রধান কারণে বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক লেনদেন অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারের আশপাশে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়তে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়েন, যা দামের ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে এই উত্থান কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি সাময়িক ‘রিকভারি’ বা বাজারের স্বাভাবিক সংশোধন। কারণ, এর আগে টানা কয়েক সেশনে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছিল।
আবার অনেক আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সতর্ক করে বলেছেন, সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকলে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়তে পারে। সাধারণত উচ্চ সুদের পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা সুদবাহী সম্পদের দিকে বেশি ঝোঁকেন, ফলে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে যেতে পারে।
এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সুদনীতি, ডলারের শক্তি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে স্বর্ণের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক উত্থান বাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, স্বর্ণের দাম আবারও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বরং তারা বলছেন, সামনে বাজার আরও ওঠানামার মধ্য দিয়েই স্থিতিশীলতার দিকে যেতে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন





























