
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে জ্বালানি সংকট ও বাজারে তেলের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল। তার দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে সাধারণ মানুষের ঘরোয়া মজুতও বড় ভূমিকা রাখছে।
মঙ্গলবার সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেক মোটরসাইকেল চালক পাম্প থেকে ট্যাংকভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অভিযান চালালে অনেক বাড়ির খাটের নিচে বোতলে দুই থেকে পাঁচ লিটার করে তেল পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, পেট্রোল পাম্পের বাইরে বিভিন্ন স্থানে খোলা তেল বেশি দামে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। তবে পাম্প থেকে সরাসরি ড্রামে তেল বিক্রির অভিযোগ তিনি নাকচ করেন। তার দাবি, বর্তমানে প্রতিটি পাম্পে সরকারের নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার থাকায় অনিয়মের সুযোগ নেই।
পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পাম্পের ডিলারশিপ বাতিল করা উচিত। একইসঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকেও দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রযুক্তিগত কারণে কোনো পাম্প পুরোপুরি খালি রাখা যায় না। নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল মজুত না থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয় এবং পুনরায় চালু করতে সময় লাগে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তেল বিক্রির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেল সরবরাহ, নিরাপত্তা জোরদার এবং মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ দেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে, পাম্পে নিরাপত্তা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়ানো।
সব মিলিয়ে, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।


























