
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। টানা ওঠানামার মধ্যেই নতুন করে দরপতন দেখা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। শক্তিশালী ডলার, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা, এই তিনটি কারণই মূলত স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি করছে।
সর্বশেষ লেনদেনে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৪৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতেও দরপতন হয়েছে, যেখানে স্বর্ণের ফিউচারস প্রায় ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্বর্ণে কোনো সুদ পাওয়া যায় না, ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা অন্য খাতে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়া ডলারের শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বৈশ্বিক উত্তেজনা যদি কমে আসে, তাহলে স্বর্ণের দাম আরও নিচে নামতে পারে। তবে বিপরীতে অনিশ্চয়তা বাড়লে আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়বে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা সামগ্রিকভাবে ধাতু বাজারে চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে দেশের বাজারে এখনো স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। সর্বশেষ নির্ধারিত দরে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায়।
বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব থাকলেও দেশের বাজারে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর আরও কমতে থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে সমন্বয় আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স




























