
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে স্বর্ণবাজারে এক ধরনের অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দামে সামান্য পতন দেখা গেলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতনই ভবিষ্যতের বড় উত্থানের ইঙ্গিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক জরিপে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার নয়শ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। আগে যেখানে এই দাম অনেক কম থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এখন সেই হিসাব পুরোপুরি বদলে গেছে।
বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছালেও পরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী নগদ অর্থের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে স্বর্ণের দামে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্থায়ী নয়; বরং একটি সাময়িক বিরতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বড় পরিসরে স্বর্ণ মজুত করছে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের চাপ এবং মুদ্রার মান নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণমুখী করে তুলছে। ভবিষ্যতে সুদের হার কমানো হলে এই প্রবণতা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানের সামান্য পতনকে অনেকেই বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের উত্থান দেখা যেতে পারে।




























