
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সংস্কারের শপথ না নিয়ে সরকারি দল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সরকারি দলের এই অবস্থান জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলেই এই নির্বাচন ও বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই পরিবর্তন এসেছে, জাতি তাদের প্রতি ঋণী। জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো রাজনৈতিক দায়িত্ব বলেই জামায়াত শপথ গ্রহণ করেছে।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, গণভোটের রায় এবং ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াকে তারা কর্তব্য হিসেবে দেখেছেন। তবে একই দিনে সংস্কারের শপথ না নেওয়ায় সরকারি দলের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, সংসদ সচিবালয়ের আমন্ত্রণপত্রে দুই ধরনের শপথের কথা উল্লেখ ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি জুলাই সনদের গণভোটের ভিত্তিতে সংস্কারের শপথ। সরকারি দল কেবল সংসদ সদস্যের শপথ নিলেও জামায়াত উভয় শপথ গ্রহণের জন্যই প্রস্তুত ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল ব্যাখ্যা দিয়েছে সংসদ বসলে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়টি দেখা হবে। কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতি যদি তারা শ্রদ্ধাশীল হতো, তাহলে সংস্কারের শপথও নেওয়া যেত। জুলাইকে স্বীকৃতি না দিয়ে এই সংসদ গৌরবের জায়গায় যেতে পারে না।
তিনি বলেন, দুই পক্ষ একসঙ্গে দুই শপথ নিলে কোনো সংকট থাকত না। কিন্তু জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি অশ্রদ্ধা হয় এমন কোনো কর্মসূচিতে জামায়াত অংশ নিতে পারে না। সে কারণেই শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করতে হয়েছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দলীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কেউ মন্ত্রী হলে সরকারি প্লট বা করমুক্ত গাড়ির সুবিধা নেওয়া হবে না। সে সিদ্ধান্তে তারা এখনও অটল আছেন।
তিনি জানান, সরকার গঠন করতে না পারায় তাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ হলো, জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনের প্রতিফলন পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। তারপরও দেশ ও জনগণের স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় এনসিপি আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ মন্ত্রীসভায় যোগ দিলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ঠেকানোর চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ মিলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


























