
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ফলস্বরূপ, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলার প্রভাব থাকলেও মূলত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকাটাই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম আরও অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সংস্থাটির মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকাটাই মূল্যবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নেতা সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন মাত্র ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে, যা বৈশ্বিক চাহিদার খুব ছোট অংশ মাত্র।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে প্রবেশ করত, যা বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের পরও প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার বাড়লে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি করবে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
























