
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গৃহযুদ্ধের মধ্যে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে জান্তা সরকার। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দুই সপ্তাহের জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক প্রশাসন।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি-তে সামরিক বাহিনীর ঘোষণায় বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। গেল শুক্রবারের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে জান্তা সরকার।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সামরিক শাসনবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো একতরফাভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীও যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে:
বিরোধী গোষ্ঠীগুলো যদি রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালায় বা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত মিয়ানমার, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত
গত শুক্রবার মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ভবন, সেতু ও বাঁধ ধসে পড়ে, সড়ক যোগাযোগ ভেঙে যায় এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। এরপরও একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে ৬.৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন ছিল।
তবে যুদ্ধের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। অনেক দুর্গম অঞ্চলে এখনো সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক চাপের ফল হতে পারে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি সংঘর্ষ বন্ধ রেখে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল।
যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবে জান্তার অবস্থানের কারণে এটি কতটা কার্যকর হবে, সেটি এখনো অনিশ্চিত। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখনো মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।