
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে সাগাইং এবং মান্দালয়ের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের মাত্র ১২ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আফটারশক অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে শত শত মসজিদপ্রেমী মুসল্লি প্রাণ হারান। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাগাইংয়ের মায়োমা মসজিদ, যেখানে নামাজ আদায়রত অধিকাংশ মুসল্লি নিহত হয়েছেন। মসজিদ ধসে পড়ার সময় প্রায় ৫০০ জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
মায়োমা মসজিদের সাবেক ইমাম সোয়ে নেই ওও বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে এসে একটি মানবাধিকার সংগঠনে কাজ করছেন। ভূমিকম্পের পর একে একে তার পরিচিতদের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। এখন পর্যন্ত তিনি জানতে পেরেছেন, তার প্রায় ১৭০ জন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং প্রিয় মুসল্লি মারা গেছেন।
সোয়ে নেই ওও বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি প্রাণ হারানো সব মানুষের কথা ভাবি। নিহতদের সন্তানদের কথা… তাদের মধ্যে কতক ছোট শিশু…এই বিষয়ে কথা বলতে বলতে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না।”
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৫২১ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪৪১ জন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সাগাইং শহরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মায়োমা স্ট্রিট। সেখানে ধসে পড়া মসজিদসহ বহু স্থাপনা থেকে এখনও মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছে।
বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য পরিচিত সাগাইংয়ে উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। যুগের পর যুগ অত্যাচার সহ্য করেও তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়সহ গোটা মিয়ানমারে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম কমিউনিটি। বিশ্বনেতারা মিয়ানমারের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা