
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: মানুষের জীবন কখনোই একরকম থাকে না। কখনো সুখ ও স্বস্তির সময় আসে, আবার কখনো দুঃখ, সংকট ও অসহায়তার মুহূর্ত জীবনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সংসারের অশান্তি, রিজিকের সংকট, চাকরি হারানো, ঋণের চাপ, হঠাৎ অসুস্থতা কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যু, এসব পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক সময় দিশাহারা হয়ে পড়ে। তখন চারদিক অন্ধকার মনে হয়, মনে হয় সব দরজা বুঝি বন্ধ হয়ে গেছে।
এই কঠিন মুহূর্তে কেউ মানুষের কাছে আশ্রয় খোঁজে, কেউ নীরবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু একজন মুমিনের প্রকৃত ভরসা মানুষ নয়; বরং সর্বাবস্থায় তাঁর ভরসা একমাত্র মহান আল্লাহ। কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিপদ যত বড়ই হোক, আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে কখনো তিনি বান্দাকে নিরাশ করেন না। যখন মানুষ সব পথ বন্ধ করে দেয়, তখন আল্লাহ অদেখা দরজা খুলে দেন।
বিপদের মুহূর্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা ইস্তিগফার অত্যন্ত শক্তিশালী একটি আমল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
অর্থ : আমি বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদী সৃষ্টি করবেন। (সুরা নূহ : ১০–১২)
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন, তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং সে কল্পনাও করতে পারেনি—এমন উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। (আবু দাউদ : ১৫১৮)
বিপদের সময় সংক্ষিপ্তভাবে এই ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়া যায়,
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই ফিরে আসি।
এ ছাড়া এই ইস্তিগফারটিও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ : আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, এবং আমি তাঁর কাছেই তওবা করি।
হাদিসে এসেছে, এই দোয়া পাঠকারী ব্যক্তি যদি বড় গোনাহেও লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
নবী করিম ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন, সর্বোত্তম ইস্তিগফার বা সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়াও বিপদ থেকে মুক্তির বড় মাধ্যম,
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ…
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা… নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে বা রাতে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ দোয়া পাঠ করে এবং সে সময় মৃত্যুবরণ করে, সে জান্নাতি হবে। (সহিহ বুখারি)
বিপদের মুহূর্তে নবীজি ﷺ–এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করাও আল্লাহর সাহায্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো। (সুরা আহজাব : ৫৬)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন, দশটি গোনাহ মাফ করেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। (নাসায়ি)
চরম বিপদের সময় দোয়া ইউনুস বিশেষভাবে কার্যকর। কোরআনে বর্ণিত এই দোয়া হলো,
لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
অর্থ : তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (সুরা আম্বিয়া : ৮৭)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো মুসলমান বিপদের সময় এই দোয়া পড়লে আল্লাহ অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিজি)
এ ছাড়া আল্লাহর ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া করাও বিপদমুক্তির অন্যতম উপায়। রাসুল ﷺ ইসমে আজম দিয়ে দোয়া করার ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন, এ নামে ডেকে কিছু চাইলে আল্লাহ তা দান করেন এবং ডাকলে তিনি সাড়া দেন। (আবু দাউদ)




























