
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ ঘিরে রাজধানী মিরপুরে সকাল থেকেই ছিল ভিন্ন রকম উৎসবমুখর পরিবেশ। সেই আবহের মধ্যেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভোট দেওয়ার পর দু’হাত তুলে সৃষ্টি কর্তার কাছে দোয়া করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তিনি দেশের শান্তি, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রার্থনা করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালক শাখা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট দেওয়ার আগে ও পরে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, দেশে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে বিজয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। জনগণের রায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন। কয়েকজন ভোটার বলেন, ফজরের নামাজ আদায়ের পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রে চলে এসেছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, ভোটগ্রহণ যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
এবারের নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংস্কারবিষয়ক গণভোটও, যা ভোটারদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। ভোটারদের মতে, দীর্ঘ ১৮ বছর পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা ১৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৭টি এবং প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন।
প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, আমজনতার দল থেকে মো. নিলাভ পারভেজ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি থেকে মোবারক হোসেন, জনতার দল থেকে খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ জাসদ থেকে মো. আশফাকুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে মো. সামসুল হক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি থেকে আহাম্মদ সাজেদুল হক।
ভোটগ্রহণ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
সার্বিকভাবে দিনটির শুরুতে ভোটারদের আগ্রহ, প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং শান্ত পরিবেশ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সবার নজর শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল এবং গণভোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।




























