
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সহজ জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর সেই লক্ষ্য খুব একটা কষ্ট ছাড়াই টপকে যায় সফরকারীরা।
বুধবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেননি টাইগার ব্যাটাররা।
ইনিংসের শুরুতে কিছু ইতিবাচক শট দেখা গেলেও দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা বাংলাদেশকে বড় বিপদে ফেলে। একের পর এক ব্যাটার অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
ফলে কোনো জুটিই বড় হতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন মেহেদি হাসান। ২২ বলের ইনিংসে তিনি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান। ওপেনার সাইফ হাসান করেন ২০ রান।
এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে না পারায় প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। ব্যাটারদের বেশিরভাগই সেট হওয়ার আগেই উইকেট বিলিয়ে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাট রেনশও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস ত্বরান্বিত করেন।
১৩২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা।
ওপেনার জশ ইংলিসকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা, যখন মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিচেল মার্শ।
দুই উইকেট হারানোর পর কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন।
বিশেষ করে কনোলি ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। তিনি ২৭ বলে ৪৭ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। ফিফটির খুব কাছে গিয়ে অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে আউট হন তিনি।
এরপর টিম ডেভিডও কিছু সময় ক্রিজে থেকে দলের জয়ের পথ সহজ করেন। ১৬ বলে ২০ রান করে তিনি মেহেদি হাসানের শিকার হন।
তবে বাংলাদেশের বোলাররা মাঝেমধ্যে উইকেট তুলে নিলেও অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে বড় কোনো বাধা তৈরি করতে পারেননি। কারণ লক্ষ্য ছিল খুবই ছোট।
পঞ্চম উইকেটে ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরী ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন। দুজনের জুটিতে অস্ট্রেলিয়া জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যায়।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার নিখিল চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। অন্যদিকে ম্যাট রেনশও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেন।
শেষ দিকে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার কোনো সুযোগ দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের আগেই জয় নিশ্চিত করে তারা।
শেষ পর্যন্ত আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে জাভিয়ের বার্টলেট বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন। ১০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ বড় হতাশার। বিশেষ করে ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আউট ও খারাপ শট নির্বাচন দলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে পরবর্তী ম্যাচে টাইগারদের ব্যাটিং বিভাগকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও পরিণত ক্রিকেট খেলতে হবে।




























