
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ন্ত্রণে একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকেও বিরত থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় আগামী সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
সমঝোতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলমান বাধা ও অবরোধ ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে বড় পরিসরের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক লেনদেন সহজীকরণ এবং আর্থিক বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতায় বলা হয়েছে, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সম্মত কাঠামো অনুসরণ করা হবে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে এবং কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সামরিক মোতায়েন থেকেও বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উভয় পক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।


























