
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে পবিত্র কুরআন থেকে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আয়াতটির অর্থ হলো, মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন। তাদের কেউ শাহাদাত বরণ করেছেন, আবার কেউ সেই প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেননি।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা আলাদা কুরআনের আয়াত নির্বাচন করে প্রতীকী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে ইরান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, লেবানন, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি ও অন্যান্য প্রতিনিধিদলের সামনেও তাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পৃথক আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এসব আয়াত নির্দিষ্ট কূটনৈতিক বার্তা বহন করে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিষয়টি মূলত বিভিন্ন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত মূলত আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকারে অবিচল থাকা মুমিনদের প্রশংসা করে। তার ব্যাখ্যায়, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে কেউ শাহাদাত বরণ করেন, আবার কেউ সেই আদর্শ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতীতে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। সেই বাস্তবতার দিকেও আয়াতটি ইঙ্গিত করতে পারে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মত হলো, ইরান হয়তো মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক সংহতি ও একে অপরের পাশে থাকার বার্তাও এই আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে। তবে এটি তার নিজস্ব বিশ্লেষণ।




























