
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: মা-শব্দটি ছোট, কিন্তু এর গভীরতা অসীম। সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্কগুলোর একটি। অথচ সেই সম্পর্কই যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল দিনাজপুরের হিলিতে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়। অভিযোগ উঠেছে, নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য নিজেরই নবজাতক সন্তানকে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো নির্মম পথ বেছে নিয়েছে এক মাদকাসক্ত দম্পতি।
ঘটনাটি ঘটেছে হাকিমপুর উপজেলার হিলি পৌর শহরের দক্ষিণ বাসুদেবপুর ক্যাম্পপট্রি এলাকায়। মাত্র ২২ দিন বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশুর ডান হাতের কব্জি কেটে ফেলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মা খাদিজা বেগম ও বাবা সাগর হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটিকে ভবিষ্যতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের পরিকল্পনাই ছিল এই অমানবিক নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে প্রতিবন্ধী বানানোর চেষ্টা করা হয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যার আগে হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। পরে তারা দেখতে পান, নবজাতকের হাত কাটা এবং শরীরে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হলে হাকিমপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “শিশুটির মা আগেও নেশার টাকার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চাইত। ধারণা করা হচ্ছে, এবার নতুন কৌশল হিসেবে শিশুটিকে পঙ্গু বানানোর চেষ্টা করেছে তারা, যাতে মানুষের সহানুভূতি পেয়ে বেশি টাকা পাওয়া যায়।”
আরও জানা যায়, শিশুটির ওপর জন্মের পর থেকেই নির্যাতন চলছিল। বাবা সাগর হোসেন কাটা হাতের অংশগুলো পুকুরে ফেলে দিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত শিশুটি ও তার মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হয়। শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার প্রশাসন গ্রহণ করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাওহীদ জামান জানান, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাত ও সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। যেখানে সন্তানের জন্য বাবা-মা জীবন উৎসর্গ করেন, সেখানে এমন নির্মমতা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে গভীরভাবে।
এ ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়-মাদক শুধু একজন মানুষকেই নয়, ধ্বংস করে দেয় মানবতা, পরিবার এবং পুরো সমাজকে।


























