
আওয়ার টাইমস নিউজ।
লাইফস্টাইল ডেস্ক: শহরের ফ্ল্যাটবাড়িতে জায়গার সংকট, বাইরে রোদের অভাব কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকেই ঘরের ভেতর ভেজা কাপড় শুকিয়ে থাকেন। ফ্যানের নিচে বা জানালার পাশে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা যেন এখন নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতর ভেজা কাপড় শুকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঘরের দেয়াল, ছাদ ও কোণায় স্যাঁতসেঁতে ভাব তৈরি করে, যা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশ। বিশেষ করে এক ধরনের ছত্রাক বাতাসের মাধ্যমে সহজেই শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে বসবাস করলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, সাইনাসের সমস্যা এবং অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ে। যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। চোখ জ্বালা, ত্বকে চুলকানি, মাথাব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। শুধু স্বাস্থ্যই নয়, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঘরের কাঠের আসবাব, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও দেয়ালের রঙেরও ক্ষতি করে। ঘরে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হওয়া বা দেয়ালে দাগ পড়া এই সমস্যারই লক্ষণ।
চিকিৎসকরা বলছেন, একান্ত প্রয়োজন হলে ঘরের ভেতর কাপড় শুকানোর সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জানালা খোলা রাখা, এক্সস্ট ফ্যান ব্যবহার করা কিংবা মানুষের চলাচল কম এমন জায়গা বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। শোবার ঘর বা বসার ঘরের পরিবর্তে বারান্দা বা বাথরুমের আলাদা অংশ ব্যবহার করাই ভালো। সম্ভব হলে রোদে কাপড় শুকানোই সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়।
সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতা মেনে চললে ঘরের পরিবেশ যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি পরিবারও রক্ষা পাবে নীরব কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে।



























