
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও কিশোরী মেয়েকে হত্যার পর প্রায় ২১ দিন ধরে একই ফ্ল্যাটে লাশ লুকিয়ে রেখে বসবাসের এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই ঘটনায় এক শিক্ষিকা ও তার দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম, তার স্বামী এবং তার দুই বোনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত মীম ও তার এক বোন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন, যার জামিনদার ছিলেন নিহত রোকেয়া রহমান। ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে জোবাইদা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ছোট বোনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই বোন গলা চেপে জোবাইদাকে হত্যা করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার পর বিষয়টি আড়াল করতে জোবাইদার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হন নুসরাতের বোন, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় মেয়েটি নিজেই বাসা ছেড়ে গেছে। পরে নুসরাত ফোন করে রোকেয়াকে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বাসায় ডেকে নেন। বাসায় প্রবেশের পর রোকেয়াকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোকেয়ার মরদেহ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং জোবাইদার মরদেহ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন ধরে অভিযুক্তরা ওই ফ্ল্যাটেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিল।
নিহত জোবাইদা ও তার মা ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় রোকেয়ার স্বামী প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নুসরাত মীম ও তার নাবালিকা বোনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা বোনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




























