
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সারাদেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যেও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক গণভোট। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন চলছে ব্যালট গণনার কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রায় দেড় যুগ পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে, তা নির্ধারণে ভোট দিয়েছেন জনগণ।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ৫১টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে দেখা গেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার টানা চার দিনের ছুটির ব্যবস্থা করে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে গ্রামে ভোট দিতে যাওয়া মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রথমবার ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচন ছিল প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল প্রচারণায় সমৃদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছান। বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় একে ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।




























