
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: মাদারীপুর সদর উপজেলায় পরকীয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ব্লেড দিয়ে ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরের দিকে সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি মাতুব্বর বাড়ি গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত রশিদ মাতুব্বরের ছেলে হাবিব মাতুব্বর (৩৫) প্রায় এক দশক আগে একই গ্রামের হোসেন মাতুব্বরের মেয়ে শিউলি বেগমকে (২৯) বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্লেড দিয়ে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন স্ত্রী-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
আহত অবস্থায় হাবিব মাতুব্বরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে।
আহতের চাচাতো ভাই হৃদয় মাতুব্বর জানান, রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা গিয়ে দেখেন, হাবিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় হাবিব মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত নন এবং কী কারণে তার স্ত্রী এমন করেছে তা তিনি জানেন না। তবে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিউলি বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ক্ষোভ ও মানসিক চাপে তিনি এ কাজ করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে ব্লেডসহ আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























